দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের ভজেন্দ্রপুর গ্রামের জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসার আবাসিক নুরানী শ্রেণির এক ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা নাবালক ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে একতলা টিনশেডের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ছাত্রটি কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বাধা দেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ছাত্রটি শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসার ওই ছাত্রসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তারুজ্জামানকে হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্ত মো. আক্তারুজ্জামান জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মো. গফুর বিশ্বাসের ছেলে। ভুক্তভোগী ছাত্র পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মনিদহ গ্রামের মেহেদী হাসান জিল্লুর ছেলে।
ভুক্তভোগীর বাবা মেহেদী হাসান জিল্লুর বলেন, আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই। এমন বিচার চাই, যাতে আর কোনো মাদ্রাসাশিক্ষক এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এমএস/